আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ এর ফজিলতের সঠিক বর্ণনা

Ayatul Kursi শব্দে শব্দে অর্থসহ ➣

আয়াতুল কুরসি ( শব্দে শব্দে বাংলা অর্থ )

📂 গুরুত্বপূর্ণ পোস্টঃ



আয়াতুল কুরসি ( Ayatul Kursi ) আরবি, বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ

Ayatul Kursi - Web Tech Info

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

আরও পড়ুন : 🟢 শব্দে শব্দে আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) | শ্রেষ্ঠ আয়াতের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

📚 আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ | আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত:

আয়াতুল কুরসি (আরবি: آية الكرسي, অর্থ: "সিংহাসনের স্তবক") হচ্ছে কুরআনের দ্বিতীয় সূরা আল-বাকারার ২৫৫তম আয়াত (২:২৫৫)। এই আয়াতে সমগ্র মহাবিশ্বের উপর আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে।


আয়াতুল কুরসি কুরআন মজীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। হাদীসে এই আয়াতের বহু ফযিলত ও বরকত বর্ণিত হয়েছে। মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতুল কুরসীকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে উল্লেখ করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঘরের ভিতরে আয়াতুল কুরসি পড়বে, আল্লাহ তার ঘরকে শয়তান থেকে রক্ষা করবেন।" (সহীহ বুখারী)

অন্য এক হাদীসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কা’বকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কুরআনের মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ? উবাই ইবনে কা’ব আরজ করলেন, তা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থন করে বললেন, "হে আবুল মানযার! তোমাকে এ উত্তম জ্ঞানের জন্য ধন্যবাদ।"


আয়াতুল কুরসির অনেক ফযীলত অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, এই আয়াত হলো কুরআনের অতীব মহান আয়াত। এটা পড়লে রাতে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকা যায়। এছাড়া এটি পড়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলে অনেক সওয়াব ও নেকী হাসিল হয় যা আমরা এই লেখাতে জানবো।

হাদীসে আছে যে, "রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) পড়া হলে তার জন্য আল্লাহ তায়ালা একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করেন, যিনি পুরো রাত তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন।"

পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সূরা আল বাকারার ২৫৫ তম আয়াতটি Ayatul Kursi (আয়াতুল কুরসি) নামে পরিচিত। আয়াতটি অধিক ফজিলত ও বরকত পূর্ণ। পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত হলো এই আয়াতুল কুরসি। পুরো আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। এটি পাঠ করলে অসংখ্য পুণ্য লাভ হয় এবং অনেক ফজিলত হাসিল করা সম্ভব। আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহতায়ালার আটটি সিফাত অর্থাৎ গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।

আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা:) রাসূল (সা:)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন- "হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে?" রাসূল (সা:) বলেছিলেন, "আয়াতুল কুরসী।"


হাদিসের ভাষায় আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) পাঠের বিশেষ চার ফজিলত:

  1. হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় থাকে।’ "যে ব্যক্তি এ আয়াতটি শোয়ার আগে পড়বে আল্লাহ তার ঘর, প্রতিবেশীর ঘর এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন।" (বায়হাকি)
  2. হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।’ (নাসাঈ)
  3. হজরত উবাই বিন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "তোমার কাছে কুরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ?" তিনি বলেছিলেন, "(আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম)।" তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত তার বুকে রেখে বলেন, "আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ।" (মুসলিম)
  4. আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সুরা বাকারার মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যে আয়াতটি পুরো কোরআনের নেতাস্বরূপ। তা পড়ে ঘরে প্রবেশ করলে শয়তান বের হয়ে যায়। তা হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।" (মুসনাদে হাকিম)

আয়াতুল কুরসীর (Ayatul Kursi) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-

اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত-২৫৫)


অর্থ: আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোন তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলির তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।

Ayatul Kursi
FAQ (প্রশ্ন ও উত্তর):

📌 প্রশ্ন: আয়াতুল কুরসি আরবি উচ্চারণ বাংলায় সহিভাবে পাওয়া যাবে?

🟢 উত্তর: অবশ্যই, নিচে আয়াতুল কুরসির সহি বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হলো:

  • আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম।
  • লা তা'খুযুহূ সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম।
  • লাহূ মা ফিস্-সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল্-আরদ্।
  • মান্ যাল্লাযী ইয়াশফাউ 'ইন্দাহূ ইল্লা বিইযনিহ।
  • ইয়া'লামু মা বায়না আইদীহিম্ ওয়া মা খল্ফাহুম।
  • ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাই’ইম্ মিন্ ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ।
  • ওয়াসি’আ কুরসিয়্যুহুস্-সামাওয়াতি ওয়াল্-আরদ্।
  • ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফ্‌যুহুমা।
  • ওয়া হুয়াল্ ‘আলিইয়্যুল্ ‘আযীম।

📌 প্রশ্ন: "আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম" এর অর্থ কী?

🟢 উত্তর:

আরবি: اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম।

বাংলা অর্থ: আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুকে ধারণকারী ও রক্ষণকারী।

📌 প্রশ্ন: "কুরসি" শব্দের অর্থ কি?

🟢 উত্তর: "কুরসি" (كرسي) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "সিংহাসন", "আসন", বা "পাদানি"। কুরআনে এটি আল্লাহর ক্ষমতা, জ্ঞান এবং রাজত্বের বিশালতাকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এটি আল্লাহর মহিমা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

📌 প্রশ্ন: "আরশ" শব্দের অর্থ কি?

🟢 উত্তর: "আরশ" (عرش) শব্দের অর্থ "সিংহাসন" বা "রাজাসন"। ইসলামে এটি আল্লাহর ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রতীক এবং সমগ্র সৃষ্টির ঊর্ধ্বে অবস্থিত আল্লাহর മഹত্বের স্থানকে বোঝায়।

📌 প্রশ্ন: কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত কোনটি?

🟢 উত্তর: কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)। রাসূলুল্লাহ (সা.) এটিকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।



"শিক্ষা ও জ্ঞান সেই আলো, যা যত ছড়িয়ে পড়ে, পৃথিবী তত আলোকিত হয়।"




আয়াতুল কুরসি ( Ayatul Kursi ) ( শব্দে শব্দে বাংলা অর্থ )

اللّهُ

আল্লাহ্‌

لاَ

নেই

إِلَـهَ

কোন উপাস্য

إِلاَّ

ছাড়া

هُوَ

তিনি

الْحَيُّ

চিরঞ্জীব

الْقَيُّومُ

চিরস্থায়ী

لاَ تَأْخُذُهُ

তাঁকে স্পর্শ করে না

سِنَةٌ

তন্দ্রা

وَلاَ

এবং না

نَوْمٌ

নিদ্রা

لَّهُ

তাঁরই

مَا

যা কিছু

فِي السَّمَاوَاتِ

আসমানসমূহে আছে

وَمَا

এবং যা কিছু

فِي الأَرْضِ

জমিনে আছে

مَن ذَا الَّذِي

কে সে যে

يَشْفَعُ

সুপারিশ করবে

عِنْدَهُ

তাঁর কাছে

إِلاَّ

ব্যতীত

بِإِذْنِهِ

তাঁর অনুমতি ছাড়া

يَعْلَمُ

তিনি জানেন

مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ

তাদের সামনে যা আছে

وَمَا

এবং যা

خَلْفَهُمْ

তাদের পেছনে আছে

وَلاَ يُحِيطُونَ

এবং তারা বেষ্টন করতে পারে না

بِشَيْءٍ

কোন কিছু

مِّنْ عِلْمِهِ

তাঁর জ্ঞানের

إِلاَّ

ছাড়া

بِمَا

যা

شَاء

তিনি ইচ্ছা করেন

وَسِعَ

পরিবেষ্টন করে আছে

كُرْسِيُّهُ

তাঁর কুরসী (সিংহাসন)

السَّمَاوَاتِ

আসমানসমূহ

وَالأَرْضَ

এবং জমিনকে

وَلاَ يَؤُودُهُ

এবং তাঁকে ক্লান্ত করে না

حِفْظُهُمَا

এদের উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ

وَهُوَ

এবং তিনি

الْعَلِيُّ

সর্বোচ্চ

الْعَظِيمُ

সর্বাপেক্ষা মহান