মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ কি বাধক্য ?
মানুষ কি সত্যিই বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যায়? আমাদের প্রত্যেকের পরিবারে দাদা-দাদু, নানা-নানু আছেন, যাঁরা অধিকাংশই বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন। হঠাৎ বা কোনো কারণে তারা পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
মানুষ কি আসলে ‘বার্ধক্যে’ মারা যায়? বিজ্ঞানের নতুন গবেষণা ও দীর্ঘায়ু রহস্য
বিজ্ঞান বলছে, বার্ধক্য নিজে কোনো ‘কারণ’ নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কোষ বিভাজনের ক্ষমতা কমে যায়, জিনগত তথ্যের ক্ষয় হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। এসব রোগই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সোজা কথায়, বার্ধক্য মৃত্যুর সরাসরি কারণ না হলেও মৃত্যুর পথ প্রস্তুত করে দেয়।
সাধারণত আমরা মনে করি, মানুষের বয়স হলে শরীর ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ ‘বার্ধক্যজনিত কারণে’ মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু জার্মান সেন্টার ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজেস (DZNE)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, পৃথিবীতে কেউই আসলে বার্ধক্যের কারণে মারা যায় না।
এই আধুনিক দীর্ঘায়ু চিকিৎসাগুলো কি সত্যিই আমাদের তারুণ্যময় জৈবিক বয়স উন্মোচনের চাবিকাঠি?
Telomeres: ক্রোমোজোমের প্রান্তভাগের এই অংশটি ছোট হয়ে আসাই বার্ধক্যের অন্যতম কারণ।
Blue Zones: পৃথিবীর যেসব অঞ্চলের মানুষ ১০০ বছরের বেশি বাঁচে (যেমন: ওকিনাওয়া, জাপান)।
Anti-aging research: বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বার্ধক্যকে একটি "চিকিৎসাযোগ্য রোগ" হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন।
বার্ধক্য কি কোনো মৃত্যুকারণ?
গবেষকদের মতে, বার্ধক্য বা 'Old Age' কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সময়কাল। আমরা যেগুলোকে বার্ধক্যের লক্ষণ (Hallmarks of Aging) হিসেবে চিনি—যেমন ডিএনএ-র ক্ষতি, ক্রোমোজোমের ক্ষয় বা জম্বি কোষের জমা হওয়া—এগুলো সরাসরি প্রাণ কেড়ে নেয় না। এগুলো কেবল শরীরকে এতই দুর্বল করে দেয় যে সাধারণ রোগগুলোই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেছেন যে কেউই—এমনকি শতবর্ষী মানুষও—আসলে ‘বার্ধক্যে’ মারা যান না।
প্রচলিত ধারণা হলো, ‘বার্ধক্য’ নিজেই মৃত্যুর একটি কারণ; বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নানা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ মারা যায়।
কিন্তু জার্মান সেন্টার ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজেসের নতুন গবেষণা বলছে, বার্ধক্য আসলে প্রকৃত মৃত্যুকারণ নয়। এটি কেবল জীববৈজ্ঞানিক ঘড়ির এমন একটি সময়, যখন নির্দিষ্ট কিছু রোগ শরীরকে পরাস্ত করে এবং মৃত্যু ঘটে।
গবেষকদের মতে, ‘বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য’ (Hallmarks of Aging)—যেমন শরীরে জমে থাকা মৃত বা নিষ্ক্রিয় কোষ, ডিএনএ ক্ষতি, বা ক্রোমোজোমের ক্ষয়প্রাপ্ত প্রান্ত—আসলে সরাসরি হত্যাকারী নয়। এগুলো বরং গভীর বার্ধক্য প্রক্রিয়ার লক্ষণ এবং এমন এক দুর্বল অবস্থার চিহ্ন, যেখানে হৃদ্যন্ত্রের ব্যর্থতার মতো প্রাণঘাতী রোগ সহজেই আঘাত হানে।
২,৪১০টি মানব ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শরীরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা। মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল হৃদ্রোগ—বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক—যা প্রায়ই মৃত্যুর আগে শনাক্তই হয়নি এবং মোট মৃত্যুর ৩৯ শতাংশের জন্য দায়ী।
এমনকি ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী, আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে তারা ‘বার্ধক্যে’ মারা যাননি। প্রায় ৭০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে হৃদ্যন্ত্রসংক্রান্ত কারণে, ২৫ শতাংশ শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতায়, আর বাকিরা অন্যান্য নির্দিষ্ট অঙ্গের বিকলতার কারণে মারা গেছেন।
এই তত্ত্বটি দীর্ঘায়ু শিল্পের (longevity industry) জন্য বড় ধাক্কা। গবেষকদের মতে, জনপ্রিয় ‘অ্যান্টি-এজিং’ ওষুধগুলো আসলে বার্ধক্য কমায় না; বরং কেবল একটি নির্দিষ্ট রোগকে কিছুটা দেরিতে প্রকাশ পেতে দেয়।
এমনকি ১০০ বছরের বেশি বয়সী যাদের সুস্থ মনে হতো, তাদের ময়নাতদন্তেও দেখা গেছে—৭০ শতাংশ হৃদ্রোগে, ২৫ শতাংশ ফুসফুসের ব্যর্থতায় এবং বাকিরা অন্য নির্দিষ্ট কারণে মারা গেছেন। একজনও ‘বার্ধক্যে’ মারা যাননি।
হার্ট অ্যাটাক ৩৯ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হলেও, সামগ্রিক হৃদ্ বা ফুসফুসের ব্যর্থতা ছিল ৩৮ শতাংশ মৃত্যুর কারণ। প্রায় ১৮ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোকে, আর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মারা গেছেন ১০ শতাংশ। বড় ধমনীর ফেটে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে।
এই শতাংশগুলোর যোগফল ১০০-এর বেশি, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই একাধিক সমস্যা একসঙ্গে ছিল—যেমন হার্ট অ্যাটাক থেকে হৃদ্যন্ত্রের ব্যর্থতা।
মানুষের ক্ষেত্রে আসল দুর্বলতা বার্ধক্য নয়, বরং রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার ব্যর্থতা।
বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্যগুলো মৃত্যুসনদে লেখা সরাসরি কারণ নয়।
বরং এগুলো এমন একটি দুর্বল শরীরের সূচক, যা পরে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অঙ্গ বিকলতার মতো নির্দিষ্ট ও শনাক্তযোগ্য রোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য: রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার ব্যর্থতা
গবেষকরা ২,৪১০টি মানব ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, মৃত্যুর পেছনে সবসময়ই সুনির্দিষ্ট কোনো রোগের ভূমিকা থাকে। বিশেষ করে শতবর্ষী মানুষদের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলেন,
‘বার্ধক্য গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে এমন কিছু ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা এই প্রক্রিয়ার জটিলতাকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করে না। সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো—জীবনকাল বাড়ানো মানেই বার্ধক্য ধীর করা।
‘কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বয়সজনিত মৃত্যু সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রাণঘাতী রোগের কারণে ঘটে, সার্বিক ও ধীরগতির বার্ধক্য প্রক্রিয়ার জন্য নয়।
‘ফলে জীবনকাল বাড়া মানে প্রায়ই নির্দিষ্ট রোগ দেরিতে হওয়া—বার্ধক্য নিজেই ধীর হওয়া নয়।’
গবেষকদের মতে, অ্যান্টি-এজিং বিজ্ঞানের ভিত্তিই ত্রুটিপূর্ণ যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
‘Hallmarks of Aging’ যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করে তারা দেখেছেন, ৫৭ থেকে ১০০ শতাংশ পরীক্ষাই করা হয়েছে আগে থেকেই বৃদ্ধ প্রাণীদের ওপর। ফলে শুরু থেকেই বার্ধক্য ধীর করা যায় কি না—সে বিষয়ে বড় প্রমাণের ঘাটতি রয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না কোনো চিকিৎসা বার্ধক্য কমায়, নাকি শুধু বয়স্ক অবস্থার রোগের উপসর্গ কমায়। অধিকাংশ গবেষণাই শুধু বৃদ্ধ প্রাণীদের চিকিৎসা দেয়, ফলে রোগ চিকিৎসা আর বার্ধক্য পরিবর্তন—এই দুটোকে গুলিয়ে ফেলা হয়।
যেসব অল্প গবেষণায় তরুণ প্রাণীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে দেখা গেছে ৭২ শতাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসা তরুণ ও বৃদ্ধ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান উপকার করেছে। অর্থাৎ এটি ছিল সাধারণ স্বাস্থ্য উন্নয়ন, বার্ধক্যের গতি পরিবর্তন নয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘hallmark’ হলো তথাকথিত ‘জম্বি কোষ’—যেসব ক্ষতিগ্রস্ত কোষ বিভাজন বন্ধ করে দেয় কিন্তু মারা যায় না। এগুলো শরীরে থেকে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং আলঝেইমার, বাত, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগে ভূমিকা রাখে।
দাবি করা হয়, এই কোষগুলোই বার্ধক্যের প্রধান চালিকা শক্তি। যদি তা সত্য হয়, তবে এগুলো অপসারণ করলে শুধু বয়স্ক শরীর কম অসুস্থ হবে না, বরং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গের অবনতি হওয়ার হারই কমে যাওয়ার কথা।
এই ধরনের চিকিৎসা সত্যিই বার্ধক্যের সার্বিক অবনতি ধীর করতে পারে কি না তা বুঝতে গবেষকদের মতে, প্রাণীদের মধ্য বয়স থেকেই চিকিৎসা দেওয়া উচিত, যাতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবনতি পর্যবেক্ষণ করা যায়—শুধু একেবারে বৃদ্ধ ও দুর্বল অবস্থায় নয়।
| মৃত্যুর কারণ | শতকরা হার (%) |
|---|---|
| হৃদ্রোগ (হার্ট অ্যাটাক) | ৩৯% |
| সামগ্রিক হৃদ্ বা ফুসফুসের ব্যর্থতা | ৩৮% |
| স্ট্রোক (Stroke) | ১৮% |
| ফুসফুসে রক্ত জমাট (Pulmonary Embolism) | ১০% |
| ধমনী ফেটে যাওয়া (Aortic Rupture) | ১০% |
*উল্লেখ্য: শতাংশের যোগফল ১০০-এর বেশি হতে পারে কারণ অনেক ক্ষেত্রে একাধিক কারণ একসাথে কাজ করে।
অ্যান্টি-এজিং শিল্পের ভিত্তি কি ভুল?
বর্তমানে বিশ্বে শত কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-এজিং’ বা দীর্ঘায়ু শিল্প গড়ে উঠেছে। এই শিল্প মূলত বার্ধক্য কমানোর দাবি করে। তবে গবেষকরা বলছেন, এসব ওষুধ আসলে বার্ধক্য ধীর করে না, বরং কোনো নির্দিষ্ট রোগকে কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দেয় মাত্র।
জম্বি কোষ এবং বায়োলজিক্যাল ক্লক
গবেষণায় ‘জম্বি কোষ’ বা সেনেসেন্ট সেল (Senescent Cells) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো এমন কোষ যা বিভাজন বন্ধ করে দিলেও শরীরে থেকে যায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু এই কোষগুলো অপসারণ করলেই বার্ধক্য থেমে যাবে না। একইভাবে ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা জৈবিক ঘড়ি কেবল শরীরের বাহ্যিক পরিবর্তন মাপে, বার্ধক্যের মূল ইঞ্জিনকে নয়।
এই ক্ষেত্র থেকেই এসেছে ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা জীববৈজ্ঞানিক ঘড়ি, যা ডিএনএ পরিবর্তনের মতো তথ্য বিশ্লেষণ করে মানুষের জৈবিক বয়স ও মৃত্যুঝুঁকি অনুমান করার দাবি করে।
কিন্তু গবেষকদের মতে, এসব ঘড়ি এমন বায়োমার্কার মাপে যেগুলো বয়সের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু বার্ধক্য চালায় এমন প্রক্রিয়া নয়। কারও ক্লক স্কোর বদলানো মানে হয়তো বার্ধক্যের একটি লক্ষণ বদলেছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া বদলায়নি।
অতিরিক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য: টেলোমেয়ারের ভূমিকা
বার্ধক্য নিয়ে আলোচনায় টেলোমেয়ার (Telomere)-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তে থাকা এই সুরক্ষাকবচ প্রতিবার কোষ বিভাজনের সময় ছোট হতে থাকে। যখন এটি অতিরিক্ত ছোট হয়ে যায়, কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না। বিজ্ঞানীরা একে 'হেফ্লিক লিমিট' (Hayflick Limit) বলেন। কিন্তু এই নতুন গবেষণা বলছে, টেলোমেয়ার শেষ হওয়া মানেই মৃত্যু নয়, বরং এটি শরীরকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায় যেখানে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা বা শ্বাসতন্ত্র আর চাপ নিতে পারে না।
শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, বার্ধক্য কেবল একটি জরাজীর্ণ অবস্থার নাম। মানুষ আসলে মারা যায় শনাক্তযোগ্য কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গে রোগাক্রান্ত হয়ে। বিশেষ করে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার সুরক্ষা করতে পারলে মানুষের আয়ু আরও বাড়ানো সম্ভব। অ্যান্টি-এজিং বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ এখন বার্ধক্য কমানোর চেয়ে রোগের বিরুদ্ধে শরীরের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।
উপসংহার: অমরত্ব কি কেবলই কল্পনা?
পরিশেষে বলা যায়, মানুষ সরাসরি বার্ধক্যের কারণে মারা যায় না; বরং মৃত্যু হলো দীর্ঘ সময়ের শারীরিক ক্ষয় এবং রোগব্যাধির চূড়ান্ত পরিণতি। বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আমরা আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বার্ধক্যকে কেবল 'প্রকৃতির নিয়ম' হিসেবে মেনে না নিয়ে একে জয় করার চেষ্টা চলছে। স্টেম সেল থেরাপি থেকে শুরু করে জেনেটিক এডিটিং—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষের গড় আয়ু ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।
তবে দীর্ঘ জীবনের রহস্য কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। জাপানের ওকিনাওয়া বা ইতালির সার্ডিনিয়ার শতায়ু ব্যক্তিদের জীবন থেকে আমরা শিখি যে—পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক বন্ধনই হতে পারে সুস্থ দীর্ঘ জীবনের মূল চাবিকাঠি। বিজ্ঞান হয়তো আমাদের দীর্ঘ সময় বাঁচিয়ে রাখার পথ দেখাবে, কিন্তু সেই জীবনকে অর্থবহ এবং প্রাণবন্ত করে তোলার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
আপনার কি মনে হয় বিজ্ঞান কি কোনোদিন বার্ধক্যকে পুরোপুরি জয় করতে পারবে? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান!






0 Comments