ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী: ভগবান থেকে মানুষ, অন্ধকার থেকে আলোয় | Dr. Shivshakti Swaroop Ji
ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার · ১৯৮৬

ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজীর বদলে যাওয়া জীবনের ঈর্ষণীয় উপাখ্যান

প্রকাশিত: ১০ মে, ১৯৮৬ (পুনর্মূল্যায়ন ২০২৪) | সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক শাহীন

ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজীর বদলে যাওয়া জীবনের ঈর্ষণীয় উপাখ্যান | Dr.  Shivshakti Swaroop Ji Biography

অজ্ঞানতার দুনিয়ায় আমি ‘ভগবান’ হিসেবে পূজিত ছিলাম, আলোকিত বিশ্বে আমি নিজকে মানুষ হিসেবে খুঁজে পেয়েছি।

— ডঃ স্বরূপজী (Dr. Swaroop ji)

হেদায়েতের আলো আভায় উদ্ভাসিত রঙিন জীবন — পৃথিবীতে এ মহাসৌভাগ্য যারা লাভ করেছেন, তাদের অন্যতম একজন হলেন ভারতের ৭০ কোটি হিন্দুর সাক্ষাৎ ভগবান ড. শিবশক্তি স্বরুপজি (Dr. Shiv Shakti Swaroop ji)। হিদায়াতের নূরে উদ্ভাসিত আলোকিত হয়ে পৃথিবীর সেরা আলোকিত মানুষে পরিণত হয়েছিলেন ড. শিবশক্তি। তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় সারা বিশ্ব বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। সারা দুনিয়ার উল্লেখযোগ্য সকল মিডিয়া তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল। তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী সত্যান্বেষী ও সত্যপ্রিয় যে কোনো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার আকর হয়ে থাকবে।

🟢 ডঃ স্বরূপজী ইসলামে মুক্তির স্বাদ পেলেন গত ১০ই মে (১৯৮৬) — ভারতের সাম্প্রতিক কালের এক মহাত্মা ধর্মগুরু যিনি সেদিন পর্যন্ত সেদেশের সর্বত্র ‘ভগবান’ নামে পরিচিত ও পূজিত ছিলেন। সেই ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী মহারাজ উদাসেন নিজ স্ত্রী ও কন্যাসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাহার নতুন নাম রাখা হয় ইসলামুল হক, পত্নীর নাম খোদেজা হক আর কন্যা নাম রাখা হয় আয়েশা হক

জন্ম ও পরিচয়

ডঃ সাহেব ভারতের বৃন্দাবনে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এ বৃন্দাবনেই হিন্দুদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। হিন্দুসমাজ এ বৃন্দাবনকে তাদের পবিত্র তীর্থভূমি হিসেবে বিবেচনা করে। রাধা কৃষ্ণের লীলাভূমি নামেও এটি সারা পৃথিবীতে পরিচিত। ভারতের হিন্দুসমাজ মনে করতেন, রাধা কৃষ্ণের এ লীলাভূমি বৃন্দাবনেই আরেক ভগবান জন্মগ্রহণ করে ‘শিবশক্তি’ নামধারণ করেছেন।

ডঃ শিবশক্তি উত্তর ভারতের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে ১৯৩৬ সালে এক ঐতিহ্যবাহী মোহন্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তারা বংশানুক্রমেই সর্বস্বামী বা মোহন্ত। তার পিতার নাম প্রিতমদাস উদাসেন এবং মায়ের নাম ভানুমতি কর। তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান হলেন শিবশক্তি।



বারটি ভাষায় পন্ডিত

পৃথিবীর বারটি ভাষায় তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো ইংরেজি, সংস্কৃত, গ্রিক, উর্দু, পালি, মারাঠি, গোরমুখি, গুজরাটি, আরবী প্রভৃতি ভাষা। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অরিয়ান্টালিজম এ মাস্টার্স, গুরুকুল কাংড়ি থেকে ‘আচারিয়া’, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বিশ্বের দশটি প্রধান ধর্মের উপর ডক্টরেট অব ডিভাইনিটি এবং অরিয়ান্টালিজম এ পিএইচডি অর্জন করেন।



জোর করে কারো মন জয় করা যায় না। ইসলাম প্রচারকদের চরিত্র মাধুর্য আর মানবতায় মুগ্ধ হয়েই হিন্দু সমাজে অত্যাচারিত হিন্দুরা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল। নিম্নবর্ণ নয়, উচ্চ বর্ণের অনেক হিন্দুই ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যার সর্বশেষ উদাহরণ ভারতের প্রায় ১০০ কোটি হিন্দুর ভগবান ড. শিবশক্তি স্বরুপজি। তিনি পৃথিবীর ১২টি ভাষাতে দক্ষ ছিলেন। যিনি ভারতের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

হিন্দু গবেষকদের মতে, এ বৃন্দাবনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাই বৃন্দাবন ছিল তাদের তীর্থভূমি। ভারতের হিন্দু সমাজের মতে, রাধাকৃষ্ণের লীলাভূমিতেই আরেক ভগবান জন্মগ্রহণ করে শিবশক্তি নাম ধারণ করেছেন। অথচ, সেই তিনিই ১৯৮৬ সালে ইসলামে দীক্ষিত হন। ইসলাম গ্রহণের পরে তিনি ড. ইসলামুল হক নামে বিশ্বময় পরিচিতি পান। 

শিক্ষা জীবন এবং উচ্চ শিক্ষা

ড. শিবশক্তি সুরুপজী"  পিতার আশ্রমেই শিবশক্তি প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অরিয়ান্টালিজম এ মাস্টার্স করেন। গুরু কুল কাংড়ি থেকে ‘আচারিয়া’ পদবি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বিশ্বের দশটি প্রধান ধর্মের উপর ডক্টরেট অব ডিভাইটিটি এবং অরিয়ান্টালিজম এ আরেকটি ‘পি এইচ ডি লাভ করেন। অর্থাৎ 

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বিশ্বের দশটি ধর্মের উপর ডক্টরেট অব ডিভাইসি এবং অরিয়ান্টালিজম এ অারেকটি পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করেন

তিনি বারোটির অধিক ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন। ইংরেজী, সাংস্কৃতি, অারবী, গ্রীক, উর্দু, গুজরাটি, পালি ইত্যাদি ভাষায় ছিলো তার বিশাল পান্ডিত্য। 



মানসিক উপলব্ধি:

নিজের এই পরিবর্তন সম্পর্কে ড. শিবশক্তি সুরুপজী"  নিজে বলেছেন, "অজ্ঞানতার দুনিয়ায় আমি 'ভগবান' হিসেবে পূজিত ছিলাম, আলোকিত বিশ্বে আমি নিজকে মানুষ হিসেবে খুঁজে পেয়েছি" তাঁর এই রূপান্তরকে অনেকেই এক ঐশ্বরিক হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন


সত্যের সন্ধান:

সব ঐশ্বর্য ও সম্মান থাকা সত্ত্বেও, তিনি জীবনের পরম সত্য ও স্রষ্টার সঠিক পরিচয় জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। পবিত্র কুরআন ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে গভীর অধ্যয়নের পর তিনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন।

“ভারত সরকার আমার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। আমি যদি বায়তুল মোকাররমের পাশে ফুটপাতে মুসল্লীদের জুতা পালিশ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, তবুও সত্য ধর্ম ইসলাম থেকে এক চুল সরবো না।”
— ড. শিবশক্তি স্বরূপজী (ইসলামুল হক), বাংলাদেশ সফরে।


সাক্ষাৎকার: অমূল্য আলাপন

✅  ডঃ স্বরূপজী ইসলামে মুক্তির স্বাদ পেলেন গত ১০ই মে (১৯৮৬) ভারতের সাম্প্রতিক কালের এক মহাত্মা ধর্মগুরু যিনি সেদিন পর্যন্ত সেদেশের সর্বত্র ‘ভগবান’ নামে পরিচিত ও পূজিত ছিলেন সেই ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী মহারাজ উদাসেন নিজ স্ত্রী ও কন্যাসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার নতুন নাম রাখা হয় ইসলামুল হক, পত্নীর নাম খাদিজা হক আর কন্যার নাম রাখা হয় আয়েশা হক। গুজরাটের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘শাহীন’ এর তরফ হতে ডঃ ইসলামুল হকের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় । "৮৭ সালের ১ মার্চ সাপ্তাহিক ‘শাহীন’-এ প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকার পরবর্তীতে বাংলায় অনূদিত হয়ে দৈনিক ইত্তেফাক-এ মুদ্রিত হয়। আমরা দৈনিক ইত্তেফাকের সেই সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু উপস্থাপন করছি।"

🟢 প্রশ্ন: ইসলাম গ্রহণের পর আপনি কি অনুভব করছেন?
আল্লাহর হাজার শোকর যে, তিনি আমাকে ঈমানের অমূল্য সম্পদ প্রদান করেছেন। আমি নিজকে পৃথিবীর এক ভাগ্যবান ও বিজয়ী পুরুষ বলে মনে করি। অজ্ঞানতার দুনিয়ায় আমি ‘ভগবান’ হিসেবে পূজিত ছিলাম, আলোকিত বিশ্বে আমি নিজকে মানুষ হিসেবে খুঁজে পেয়েছি।
🟢 প্রশ্ন: আপনার আগের নাম ও পরিচয় সম্বন্ধে কিছু বলুন?
আমার নাম মহানত, ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী মহারাজ উদাসেন, ধর্মচারিয়া, আদ্যশক্তিপীঠ। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আমার পেশা মহানতগিরি। বৃন্দাবনে ‘অনাখন্ড আশ্রম’ নামে আমার বড় আশ্রম ছিল। দ্বিতীয় আশ্রম বোম্বাইয়ের মুলুনডে। আর তৃতীয় দেবালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আশ্রমটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৫০ একর জুড়ে ছিল। ‘খারাপ পথে’ চলা মানুষের সুপথে আনার উদ্দেশ্যে শিক্ষাদান’ পথ প্রদর্শন ও শিষ্য তৈরী করা ছিল আমার প্রাত্যহিক কাজ।
🟢 প্রশ্ন: নিজের ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করুন।
১৯৮৪’র জানুয়ারীর কথা। এক রাত্রে আমি স্বপ্ন দেখলাম। একদল লোক আমাকে ধাওয়া করছে। আমি দৌড়চ্ছি তারাও দৌড়চ্ছে। আমি দাঁড়াই, তারাও দাঁড়ায়। হঠাৎ আমি ধাক্কা খেলাম এবং মাটিতে পড়ে গেলাম। দু’টি অজানা হাত আমাকে ধরে দাঁড় করালো। দাঁড়িয়ে এক নূরানী চেহারার দিকে অবাক হয়ে থাকিয়ে রইলাম। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন, ইনি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। আমার শরীর কাঁপতে শুরু করল। নবীজী বললেন, ‘‘কলমা পড়।” আমি কলমা পড়লাম। তিনি আমার ডান হাত নিজের পবিত্র হাতের মধ্যে রেখে যা যা পড়াতে লাগলেন, আমি তা পড়তে লাগলাম। এমনি করে পড়া শেষ হলো। তার পর তিনি আমাকে আলিঙ্গন করলেনঃ আর বললেন, “এ দেশকে কলমা পড়াও।”

আমি কতক্ষণ ধরে এ স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আমার মনে নেই। যখন চোখ খুললাম, দেখলাম রাত তিনটা বাজে। একই রাতে, একই সময়ে আমার স্ত্রীও এ ধরনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। … আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নিজেদের প্রথম শতাব্দীর মুসলমান বলে ভাবতে লাগলাম। আমি বিধিসম্মতভাবে মুসলমান হবার উপায় খুঁজতে লাগলাম, এখানে সেখানে ঘুরি, আর মুসলমানদের সাথে সম্পর্ক বাড়াই। চুপিসারে নামায পড়ি। এবাদত বন্দেগী করি। পরিশেষে ভাগ্যক্রমে আলেমদের শহর ভূপাল পৌঁছই। ১৯৮৬-এর ১০ই মে, রমজান মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে আমি আমার স্ত্রী আর আমার যুবতী কন্যা প্রকাশ্যভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। আলহামদুলিল্লাহ
🟢 প্রশ্ন: আপনার পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সর্বত্র। আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে, নিজের শিক্ষা জীবন ও ধর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
আশ্রমেই আমার শিক্ষার সূচনা হয়। পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওরিয়েন্টালিজমে এম.এ। গুরুকুল কাংডি থেকে ‘আচারিয়া’ (আচার্য) পদবী লাভ। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বের দশটি প্রধানতম ধর্মের উপর ডক্টর অব ডিভাইনিটি এবং সেই সাথে ওরিয়েন্টালিজমে আরেক পি.এইচ.ডি। পোপ পল-৬ এর আহবানে ইতালী যাই। সেখানে সাতটি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ দান করি। আমাকে এক মহাসম্মান ভাটিকানের নাগরিত্ব দান করা হয়। এবং খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান হয়। আমি তদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ভারতে এসে বিধিমত মুকুট ধারণ করে আশ্রমের গদিতে বসে পড়ি।

আমার জন্ম ১৯৩৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারী। জন্মস্থান মথুরা, বৃন্দাবন। আমি প্রায় ১২টি ভাষা জানি, এর মধ্যে ইংরেজী, সংস্কৃত, গ্রীক, হিন্দি, পালি, গোরমুখী, মারাঠী, গুজরাতি, উর্দু ও আরবী আমার ভাল লাগে। … আগেই বলেছি, আমি দুনিয়ার দশটি প্রধানতম ধর্মের উপর তুলনামূলক পড়াশুনা ও গবেষণা করেছি। সে জন্য সত্য স্বীকারে আমার কোন সংকোচ ছিল না। আমার সমকালীনদের মধ্যে হিন্দু জগতের বড় বড় জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব ও পন্ডিত রয়েছেন। যেমন জগৎগুরু শংকরাচার্য, রামগোপাল শারওয়ালে, পুরীর শংকরাচার্য, মহামন্ডেলশ্বর স্বামী অখন্ডানন্দজী, গুরু গোলওয়ালকার বাবা সাহেব দেশমুখ, বালঠাকুরে, অটলবিহারী বাজপায়ী, নানা সাহেব, দেশমুখ, বিনোবা ভাবে এবং অন্যান্য।

একবার তিনি তার “পরমধাম” আশ্রমে আমাকে বক্তৃতাদানের বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে দাদা ধর্মাধীকারী আমাকে জিজ্ঞাসা করে বসেনঃ “আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম সম্বন্ধে পড়াশুনা করেছেন, মানুষের জন্য কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ বলে মনে হয়? আমি জবাবে বলেছিলাম,‘ইসলাম’ আমার জওয়াবে দাদা খুশী হন নাই। তিনি বলেন, উঠেন, “ইসলাম নানা বাধা-বন্ধন আরোপ করে।” আমি জবাব দিলাম, “যে বন্ধন বাঁধে, সেই বন্ধনই মুক্তি দিতে পারে। আর যে প্রথম থেকে স্বাধীন, তার সারা জীবনের জন্য বন্ধন সৃষ্টি প্রবণতা থেকে যাবে। এ ধরনীতে মানুষকে এক সাথে বেঁধে রাখার জন্য বন্ধনকারী ধর্মের প্রয়োজন রয়েছে, যা তাদের পৃথিবীতে ভাল করে বেঁধে রাখবে এবং পরলোকে মুক্ত করে দেবে। আর এ রকম ধর্ম আমার মতে একমাত্র ইসলামেই রয়েছে। ইসলাম ছাড়া এরকম ধর্ম আমি আর দেখি না।”
🟢 প্রশ্ন: দাদা ধর্মাধীকারীর প্রশ্নের উত্তরে আপনি ইসলামকে কেন শ্রেষ্ঠ বললেন?
আমি বলেছিলাম, ‘ইসলাম’। তিনি বললেন ইসলাম তো নানা বাধা-বন্ধন করে। আমি জবাব দিলাম: যে বন্ধন বাঁধে, সেই বন্ধনই মুক্তি দিতে পারে। যে প্রথম থেকে স্বাধীন, তার জীবনে বন্ধন সৃষ্টির প্রবণতা থেকে যায়। ইসলাম মানুষকে পৃথিবীতে শৃঙ্খলায় বেঁধে রাখে এবং পরকালে মুক্তি দেয়। এরকম ধর্ম আমি ইসলাম ছাড়া আর দেখি না।
🟢 প্রশ্ন: ইসলাম গ্রহণের কারণ ও স্বপ্নের ঘটনা বলুন
১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে স্বপ্নে এক নূরানী চেহারা দেখলাম। পাশের ভদ্রলোক বললেন ইনি হযরত মোহাম্মদ (সা:)। নবীজি বললেন ‘কলমা পড়’। আমি কলমা পড়লাম। তিনি আমার হাত ধরে শিখালেন এবং আলিঙ্গন করে বললেন ‘এ দেশকে কলমা পড়াও’। একই রাতে আমার স্ত্রীও একই স্বপ্ন দেখেন। পরিশেষে ১৯৮৬ সালের ১০ মে রমজানের চাঁদ দেখার দিন আমি, আমার স্ত্রী ও কন্যা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করি।
🟢 প্রশ্ন: পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থে ইসলাম ও নবীজির বর্ণনা পেয়েছেন?
বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ ছাড়া বাকী সব ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা:) অথবা আহমদ নাম স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। বিশেষ করে বেদে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
🟢 প্রশ্ন: আপনি লাখ লাখ টাকার সম্পদের মোহ ছেড়ে দিয়ে ইসলাম কবুল করেছেন। বর্তমানে আপনি কিভাবে জীবন নির্বাহ করছেন?
আমি সমগ্র বিশ্বের রাজত্বও ইসলামের এই মহান উপহারের বদলে ত্যাগ করতে দ্বিধা বা কুণ্ঠাবোধ করতাম না। ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে যে তৃপ্তি আমি পেয়েছি সাতরাজ্যের ধন সম্পদ লাভ করেও তা পাওয়া সম্ভব নয়। আমি আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করি। আল্লাহ তায়ালার কৃপায় প্যারা মাইক্রো পন্থায় দুরারোগ্য ব্যাধির উপশম ঘটাই। এতেই আমার, আমার পরিবারের ডাল রুটির ব্যবস্থা হয়ে যায়।।
🟢 প্রশ্ন: নবীজি (সা:) সম্পর্কে আপনার ধারণা?
আমি আল্লাহকে চিনতাম না। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে রাব্বে জুলজালালকে চিনিয়েছেন এবং ঈমানের স্বাদ দিয়েছেন।
🟢 প্রশ্ন: মুসলমানদের জন্য আপনার বাণী?
নবীজি মুসলমানদের সোনার টুকরা এবং মধুমক্ষিকার সাথে তুলনা করেছেন — যাতে ঔজ্জ্বল্য কখনো কমে না, শুধু মধু বিতরণ করে, বিষ নয়। মুসলমান সেই, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

✅ প্রশ্ন: ধর্মান্তরিত অর্থ কি?
উত্তর: ধর্মান্তর শব্দের বাংলা অর্থ হলো অন্য বা ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ। নিজ ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করাকে বোঝায়। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া মানে ইসলামকে বিশ্বাস ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা এবং অন্য সব ধর্ম বা অধর্মকে প্রত্যাখ্যান করা।
✅ প্রশ্ন: ইসলামের স্তম্ভ কি কি?
উত্তর: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ: ১) কালিমা শাহাদাত (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর রাসূল), ২) নামাজ আদায় করা, ৩) যাকাত দেওয়া, ৪) রমজানের রোজা রাখা, ৫) সক্ষম হলে হজ্ব করা। তবে ইসলাম কেবল এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা অবশ্য পালনীয়। পরিবারের সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, গরিব-এতিমের খোঁজখবর, ন্যায় প্রতিষ্ঠা— সবখানেই ইসলামের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

সূত্র: গুজরাটের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘শাহীন’ (১ মার্চ ১৯৮৭) ও দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার। ডঃ ইসলামুল হকের আত্মত্যাগ ও সত্যের পথে পাড়ি দেওয়া আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

© ২০২৪ Web Tech Info — সত্যের সন্ধানে, আলোর পথে। নিবন্ধটি শুধুমাত্র জ্ঞাতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী এবং ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

✅ প্রশ্ন: ধর্মান্তরিত (Converted) অর্থ কি?

উত্তর: ধর্মান্তর শব্দের বাংলা অর্থ হলো অন্য বা ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ। নিজ ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করাকে বোঝায়। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া মানে ইসলামকে বিশ্বাস ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা এবং অন্য সব ধর্ম বা অধর্মকে প্রত্যাখ্যান করা। ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যা ধর্মান্তরের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

✅ প্রশ্ন: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ কি কি?

উত্তর: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ হলো: ১) কালিমা শাহাদাত (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর রাসূল), ২) নামাজ আদায় করা, ৩) যাকাত প্রদান করা, ৪) রমজান মাসের রোজা রাখা, ৫) সক্ষম হলে হজ্ব করা। তবে ইসলাম শুধু এই পাঁচটি স্তম্ভেই সীমাবদ্ধ নয় - পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে।

✅ প্রশ্ন: ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী কেন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর: ১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা:) তাঁকে কলমা পড়াতে বলেন। একই রাতে তাঁর স্ত্রীও একই স্বপ্ন দেখেন। এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে গভীর গবেষণা করেন এবং ১৯৮৬ সালের ১০ই মে রমজান মাসের চাঁদ দেখার দিন নিজ স্ত্রী ও কন্যাসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “অজ্ঞানতার দুনিয়ায় আমি ‘ভগবান’ হিসেবে পূজিত ছিলাম, আলোকিত বিশ্বে আমি নিজকে মানুষ হিসেবে খুঁজে পেয়েছি।”

✅ প্রশ্ন: ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম কি হয়?

উত্তর: ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম রাখেন ইসলামুল হক। তাঁর স্ত্রীর নতুন নাম রাখা হয় খোদেজা হক এবং কন্যার নাম রাখা হয় আয়েশা হক

✅ প্রশ্ন: তিনি কয়টি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন?

উত্তর: ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী পৃথিবীর ১২টি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। ভাষাগুলোর মধ্যে ইংরেজি, সংস্কৃত, গ্রিক, উর্দু, পালি, মারাঠি, গোরমুখি, গুজরাটি, আরবী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দশটি প্রধান ধর্মের উপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

✅ প্রশ্ন: হিন্দু সমাজে তাঁর অবস্থান কেমন ছিল?

উত্তর: ডঃ শিবশক্তি স্বরূপজী ভারতের প্রায় ৭০ কোটি হিন্দুর দ্বারা ‘ভগবান’ হিসেবে পূজিত হতেন। তাঁর জন্ম বৃন্দাবনে, যা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থভূমি। হিন্দু গবেষকদের মতে, বৃন্দাবনেই তাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। কিন্তু তিনি সত্য অনুসন্ধান করে ইসলাম গ্রহণ করেন।