
ইস্তিগফার: হতাশা ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের ঐশী সমাধান
জীবনের কঠিন পথে চলতে গিয়ে যখন হতাশা ও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘিরে ধরে, তখন ক্ষমা প্রার্থনাই হতে পারে মুক্তির দিশা। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে তিনি কেবল পাপই মোচন করেন না, বরং দুনিয়াবী সংকট থেকেও উত্তরণের পথ খুলে দেন।
অভাবনীয় উৎস থেকে রিজিক ও মানসিক প্রশান্তি
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করে, আল্লাহ তাকে তিনটি বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেন:
তিনি সকল দুর্দশা থেকে মুক্তির পথ তৈরি করে দেন।
সমস্ত দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে তাকে পরিত্রাণ দান করেন।
তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।
অন্য একটি হাদিসে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের পাপের জন্য নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার দারিদ্র্য দূর করে দেন এবং সকল বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে নিরাপত্তা ও সচ্ছলতা দান করেন।
রাসুল (সা.)-এর জীবনে ইস্তিগফারের গুরুত্ব
স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.), যিনি ছিলেন সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্ত ও নিষ্পাপ, তিনিও নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তাঁর এই আমল উম্মতের জন্য এক বড় শিক্ষা।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার ও তাওবা করি।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৭)
রাসুল (সা.)-এর কোনো গুনাহ না থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই আমল প্রমাণ করে যে, ইস্তিগফার শুধু পাপ মোচনের জন্যই নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভ, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনের এক অন্যতম মাধ্যম। এটি বান্দার বিনয় ও আল্লাহর প্রতি তার মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটায়, যা আল্লাহ অত্যন্ত পছন্দ করেন।
0 Comments