🟢 কুরআন হাদিসের আলোকে জুমার দিনের ফজিলত

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ আমল:
প্রিয় পাঠক, আশাকরি আপনারা সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আজকের আর্টিকেলটি শুক্রবারের মর্যাদা ও জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হলাম।
এক অনন্য সুযোগ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এক অফুরন্ত বরকতের দিন, আর এই দিনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো—জুমার নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা। তবে, শুধু নামাজেই নয়, এই পবিত্র দিনে আরও কিছু আমল রয়েছে যা মুমিনের ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে।
এই দিনের বিশেষ আমলগুলো হলো:
শ্রেষ্ঠ দিন:
জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে ধরা হয়।
গুনাহ মাফ:
এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন দোয়া কবুল হয় এবং গুনাহ মাফ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে according to Hadith।
দোয়া কবুল:
হাদিসে আছে, জুমার দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা যা দোয়া করে, আল্লাহ তা কবুল করেন
"জুমার দিনে এমন কিছু আমল আছে, যা শুধু গুনাহ মাফ করে না— বরং খুলে দেয় সেই সৌভাগ্যের দরজা, যেখানে আল্লাহর রহমত অপেক্ষা করে।"
🟢 জুমার দিন কোন আমলগুলো করলে আল্লাহ্র কাছে যা চাইবেন তাই পাবেন |

আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের দরজা আরও প্রসারিত হওয়ার দিন।
জুমার দিন শুধুমাত্র এক বিশেষ দিন নয়—এটি হলো সপ্তাহের রাজা, যাকে ইসলাম ঘোষণা করেছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে। এই দিনটি মুসলিমদের জন্য অফুরন্ত ফজিলতের ভাণ্ডার, যেখানে প্রতিটি নেক আমল হতে পারে ভাগ্য বদলের হাতিয়ার।
আল্লাহ তাআলা এই দিনের মাহাত্ম্য এতটাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন যে, পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে একটি সূরা নাজিল করেছেন—সূরা জুমা, যা এই দিনের তাৎপর্য ও মুমিনের করণীয় তুলে ধরে।
জুমার দিন অর্থাৎ শুক্রবার একজন মুসলিমের জন্য বিশেষ বরকত ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে কিছু বিশেষ আমল ও ফজিলত রয়েছে। জুমার দিনে একটি সময় আছে যে সময় বান্দা দোয়া করলে আল্লাহ সাথে সাথে কবুল করে নেন।
বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়াছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)
মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের অনেক আমল হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিচে উল্লেখ করা হচ্ছে:
- ১. গোসল করা।
- ২. উত্তম পোশাক পরিধান করা।
- ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- ৪. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।
- ৫. যথাসম্ভব দ্রুত মসজিদে যাওয়া।
- ৬. ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী হয়ে বসা।
- ৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা।
- ৮. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
- ৯. দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেয়া।
- ১০. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
"জুমার গোসলে হোক আত্মা ও দেহের পরিশুদ্ধতা"
জুমার দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ উপহার—আর এই পবিত্র দিনে গোসল করা হলো ইবাদতের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ, যা আত্মা ও শরীর—উভয়কেই পরিশুদ্ধ করে। এটি কেবল শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং এক ধরনের আত্মিক রিফ্রেশমেন্ট, যেন বান্দা নিজেকে আল্লাহর সামনে হাজির করতে পারে পূর্ণ সম্মান ও যত্নের সঙ্গে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “জুমার দিনে প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর গোসল করা ওয়াজিব।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৭৭; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮৪৬)
এই গোসল শুধুই পানি দিয়ে শরীর ধোয়ার নাম নয়—এটি এক ধরনের নিয়্যতের প্রকাশ, যেখানে মুমিন বলে, “হে আল্লাহ! আমি এসেছি তোমার ডাকে, পরিচ্ছন্ন হয়ে, বিনয় নিয়ে।” প্রতিটি ফোঁটা যেন দেহ থেকে গুনাহ ধুয়ে দেয়, আর অন্তরকে করে তোলে আলোকোজ্জ্বল।
"পোশাকে হোক পরিশুদ্ধতা, জুমায় হোক ইবাদতের জ্যোতি"
জুমার দিন কেবল একটি দিন নয়—এটি এক আধ্যাত্মিক মিলনের উৎসব, যেখানে প্রত্যেক মুসলিম হাজির হয় তার প্রভুর দরবারে। তাই এই দিনে উত্তম ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, বরং এটি ইবাদতের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি নিঃশব্দ ভাষা। পোশাক হোক পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও মর্যাদাপূর্ণ—যেমনটি নবীজি (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে এবং উত্তম পোশাক পরিধান করে। যদি তার কাছে সুগন্ধি থাকে, তবে তা ব্যবহার করুক।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২০০৮৯)
উত্তম পোশাক যেন মুমিনের সম্মানবোধের প্রতীক, যা হৃদয়ের বিনয় ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ। এই প্রস্তুতি শুধুই নিজের জন্য নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের এক অনন্য সম্মান।
জুমার দিনের সকাল যেন এক নতুন শুরু, যেখানে প্রতিটি প্রস্তুতি আল্লাহর সান্নিধ্যের খোঁজে। সেই প্রস্তুতির একটি মনোমুগ্ধকর দিক হলো সুগন্ধি ব্যবহার—এটি শুধু ঘ্রাণ নয়, এক ধরণের আত্মিক সম্মান। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে উৎসাহ দিতেন, তিনি বলেন:
এটি যেন আত্মার এক নিঃশব্দ সাজ, যা অন্তরকে করে তোলে প্রশান্ত, আর পরিবেশকে করে তোলে পবিত্র। সুগন্ধির সেই নরম ঘ্রাণ শুধু বাহ্যিকতা নয়, ইবাদতের একটি সূক্ষ্ম সৌন্দর্য—যা মিলে যায় আসমানের ফেরেশতাদের প্রশংসায়।
এই চারটি আমলের কথা একসঙ্গে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)
রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)
মসজিদে আগে যেসমস্ত মুসল্লিগণ যেতে পারেন তারাই সাধারণত ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী হয়ে বসার সুযোগ পায়। প্রথম কাতারে বসার যে ফযিলত বর্ণিত হয়েছে তারাই সেই সৌভাগ্য অর্জন করে, আর ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী হয়ে বসলে সব আলোচনা শোনা ও বোঝা সহজ হয়।
এই জন্য হাদিসে ইমাম বা খতিব সাহেবের নিকটবর্তী হয়ে বসার কথা বলা হয়েছে। অনেকে হয়ত মনে করতে পারেন এখন তো স্পিকার বা মাইকে আলোচনা শোনা যায়।
তাদের জন্য একটি উদাহরণ আলোর কাছে বসা আর আলো দূর থেকে দেখা এক নয়। কাছে বসলে মনের মধ্যে আলাদা জাগানিয়া তৈরি হয়। কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে ইচ্ছে হয় এবং পরে আমল করার ইচ্ছে জাগে। তাই আমাদের যথাসম্ভব ইমামের কাছে বসে আলোচনা শোনা উচিত।
মর্যাদপূর্ণ এই দিনের বিশেষ একটি আমল হচ্ছে সুরা কাহফ তিলওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)
এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ একটি আমল হচ্ছে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
পায়ে হেটে দরুদ পড়তে পড়তে মসজিদে যাওয়ার ব্যপারেই মূলত ফজিলতগুলো বলা হয়েছে। তাই মসজিদে জুমার দিন পায়ে হেটে যাওয়া সুন্নত তবে কারো সমস্যা থাকলে অন্য ব্যপার।
উত্তরঃ
- গোসল করা।
- উত্তম পোশাক পরিধান করা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।
উত্তরঃ জুমার নামাজে দুই রাকাত ফরজ। এছাড়া ফরজ নামাজের পূর্বে ও পরে সুন্নত নামাজ আদায় করতে হয়।
0 Comments