আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার সময় কর কর্মকর্তারা কী কী দেখেন? | Tax Audit Bangladesh
অর্থ ও কর · NBR আপডেট
Web Tech Info Bangla Logo
Web Tech Info Bangla

আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার সময় যা দেখেন কর কর্মকর্তারা

📅 ২০২৩–২৪ করবর্ষ 🏛️ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ⏱️ পড়তে সময় লাগবে ~৪ মিনিট

আয়কর রিটার্ন অডিটে বা নিরীক্ষায় পড়লে ঝামেলায় পড়ে যান করদাতারা। রিটার্নে দেখানো অসংগতিগুলো নিয়ে কর অফিসে জবাবদিহি করতে হয়, নানা কাগজপত্র জোগাড় করতে হয় এবং শুনানিতে যেতে হয়।

২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষায় (অডিট) কর কর্মকর্তারা মূলত আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতা, সম্পদ বৃদ্ধির অসংগতি, উৎসে কর কর্তন (TDS), এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঠিকতা যাচাই করেন । অটোমেটেড পদ্ধতিতে প্রায় ৮৮ হাজার রিটার্নে কর ফাঁকি বা তথ্যের ভুল খুঁজে বের করতে এই নিরীক্ষা করা হচ্ছে । তাই
জেনে নিন — কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ে কর কর্মকর্তাদের।

🟢 আরও পড়ুন: 🛑 NBR Audit Checker Online Tools- NBR Audit Status by TIN NBR Audit List-2023-2024 || রিটার্ন অডিটে পড়লো কিনা? চেক করে নিন !...
৮৮K
নথি নিরীক্ষার আওতায়
১০
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
১০০%
স্বয়ংক্রিয় অটোমেটেড
২৩–২৪
করবর্ষ
⚠️
সতর্কতা: বড় পরিসরে নিরীক্ষা চলছে

এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৮৮,০০০ করদাতার আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩–২৪ করবর্ষের জমা দেওয়া রিটার্নগুলো নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

নিরীক্ষায় কর কর্মকর্তারা যা যা দেখা দেখেন !
01
📊
আয়–ব্যয় ও উৎসে কর কাটার তথ্যের অসামঞ্জস্য

রিটার্নের তথ্য ও উৎসে কর কাটার তথ্যের মিল আছে কি না, তা প্রথমেই দেখা হয়। করদাতাদের আয়-ব্যয়, উৎসে কর কর্তন এবং ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে রিটার্নের তথ্য না মিললে বিপদে পড়তে হবে।

🔴 উচ্চ ঝুঁকি
02
🏠
আগের বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি

আগের বছরের তুলনায় হঠাৎ অস্বাভাবিক বেশি সম্পদ দেখানো হলে কর কর্মকর্তারা নজর দেবেন। সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎসের ব্যাখ্যা না থাকলে বিপাকে পড়তে হবে।

🔴 উচ্চ ঝুঁকি
03
📉
আয় কম দেখানো

করদাতার প্রকৃত আয় বেশি হলেও রিটার্নে কম দেখানো হয়েছে কি না, তা দেখবেন কর্মকর্তারা। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, TDS তথ্য ও তৃতীয় পক্ষের ডেটার সাথে তুলনা করা হয়।

🔴 উচ্চ ঝুঁকি
04
🏭
ব্যবসায়িক ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি

কোনো ব্যবসায়ী করদাতার ব্যবসায় ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি দেখালে নিরীক্ষায় আসবে। অনেকে খরচ বেশি দেখিয়ে লাভ কম দেখান — এটি সরাসরি কর ফাঁকির আওতায় পড়তে পারে।

🔴 উচ্চ ঝুঁকি
05
🧾
উৎসে কর সংক্রান্ত ভুল দাবি

উৎসে কর কাটা থাকলেও রিটার্নে ভুল দাবি করলে নিরীক্ষার সময় তা ধরা পড়বে। TDS সার্টিফিকেট ও রিটার্নের দাবির মিল না থাকলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

🟡 মধ্যম ঝুঁকি
06
📁
অসম্পূর্ণ বা ভুল কাগজপত্র

রিটার্ন দাখিলের কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে বিপাকে পড়বেন। আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদের দলিল ও প্রমাণপত্র না থাকা বা ভুল কাগজপত্র দেওয়া — সবই ঝুঁকিপূর্ণ।

🟡 মধ্যম ঝুঁকি
07
💵
নগদ অর্থ অস্বাভাবিক বেশি

রিটার্নে হাতে নগদ টাকা (Cash in Hand) অস্বাভাবিক বেশি দেখালে কর কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় পড়বেন। এই অর্থের উৎস প্রমাণ করতে না পারলে সমস্যা বাড়বে।

🟡 মধ্যম ঝুঁকি
08
🏦
ঋণ বা দায় অস্বাভাবিক বেশি

রিটার্নে ঋণ বা দায় অস্বাভাবিক বেশি দেখানো হলে নিরীক্ষায় নজরে আসবেন। ঋণের উৎস, পরিমাণ এবং পরিশোধের প্রমাণ থাকতে হবে।

🟢 সাধারণ ঝুঁকি
09
🏡
সম্পদ ক্রয়–বিক্রয়ের তথ্য গোপন

রিটার্নে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি সম্পদের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য গোপন করলে নিরীক্ষায় ধরা পড়বে। তাই সকল সম্পদ যথাযথভাবে রিটার্নে দেখিয়ে দিতে হবে।

🔴 উচ্চ ঝুঁকি
10
💹
বিনিয়োগের হিসাবে গরমিল

বিনিয়োগের হিসাব সঠিক আছে কি না, তা কর কর্মকর্তারা যাচাই করেন। অতিরিক্ত বা ভুল বিনিয়োগ দেখিয়ে অনেকে অন্যায়ভাবে কর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

🟡 মধ্যম ঝুঁকি

করণীয়: নিরীক্ষায় পড়লে অসংগতিগুলোর স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ ও কাগজপত্র (ভাউচার, চালান, ব্যাংক স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে

✅ নিরাপদ থাকতে যা করবেন
  • সকল আয়ের উৎস সৎভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে রিটার্নে উল্লেখ করুন।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, TDS সার্টিফিকেট ও সম্পদের দলিলপত্র সংরক্ষণ করুন।
  • জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি — সব সম্পদ রিটার্নে দেখান এবং উৎস স্পষ্ট করুন।
  • ব্যবসায়িক খরচের প্রমাণ (ভাউচার, চালান) সংরক্ষণ করুন ন্যূনতম ৬ বছর।
  • অভিজ্ঞ কর পরামর্শদাতার সহায়তায় রিটার্ন দাখিল করুন।